টার্বিডিটি ইউনিট: NTU বনাম FNU, ক্যালিব্রেশন ও 4-20 mA স্কেলিং

ধরুন, জাপান থেকে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট স্কিড এসেছে। এর অনলাইন টার্বিডিটি মিটারের ডেটাশিটে লেখা "0–20 度 (formazin), 4–20 mA", আর অ্যালার্ম বসানো "5 度"।
আপনার কারখানার রিপোর্টে (যেমন ETP বা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে) টার্বিডিটি NTU-তে লেখা হয়, আর ল্যাবের মিটারে দেখায় FNU। স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো: জাপানি এক "ডিগ্রি" (do) মানে কত NTU, আর ওই অ্যালার্ম সেটিং এখনো কাজের কি না।
সংক্ষিপ্ত উত্তর: কোনো একক রূপান্তর গুণক নেই। টার্বিডিটির রিডিং নির্ভর করে ক্যালিব্রেশনের স্ট্যান্ডার্ডের (কাওলিন, ফর্মাজিন বা পলিমার বিডস) ওপর, আর অপটিক্সের (আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ডিটেক্টরের কোণ) ওপর। দুটি রিডিং তখনই তুলনা করা যায়, যখন এই দুটোই মেলে।
ইউনিট ঠিক রাখতে মিটারের ক্যালিব্রেশন, আর মিটার থেকে কন্ট্রোল সিস্টেমে যাওয়া 4–20 mA স্কেলিংও মিলিয়ে দেখতে হয়।
এই লেখায় আছে: জাপানি টার্বিডিটি ইউনিট, NTU বনাম FNU (EPA 180.1 বনাম ISO 7027), টার্বিডিটি বনাম TSS, প্রধান পরিমাপ পদ্ধতি, ক্যালিব্রেশন, 4–20 mA স্কেলিং ও সমস্যা খোঁজা। শেষে আছে একটি চেকলিস্ট, জাপানি সাপ্লায়ারকে করার প্রশ্ন এবং একটি নমুনা ইমেইল।
সূচিপত্র
- টার্বিডিটি কী মাপে (এবং কী মাপে না)
- টার্বিডিটি ইউনিট: জাপানি "ডিগ্রি" (do), NTU, FNU ও FAU
- টার্বিডিটি বনাম TSS (সাসপেন্ডেড সলিড)
- টার্বিডিটি কীভাবে মাপা হয়: প্রধান পদ্ধতিগুলো
- পরিমাপ পদ্ধতি বাছাই
- অনলাইন টার্বিডিটি মিটারের স্যাম্পল লাইন ডিজাইন
- টার্বিডিটি মিটার ক্যালিব্রেশন: ফর্মাজিন, StablCal ও অন্য স্ট্যান্ডার্ড
- 4–20 mA স্কেলিং ও অ্যালার্ম ডিজাইন
- লক্ষণ ধরে টার্বিডিটি রিডিংয়ের সমস্যা খোঁজা
- চেকলিস্ট: জাপানি টার্বিডিটি মিটারের স্পেক পর্যালোচনা
- জাপানি সাপ্লায়ারকে করার প্রশ্ন
- এই লেখার সীমা
- প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- সূত্র
টার্বিডিটি কী মাপে (এবং কী মাপে না)
টার্বিডিটি (ঘোলাটে ভাব) বলে, একটি পানির নমুনা কতটা আলো ছড়িয়ে দেয় বা দুর্বল করে। কাদা, সূক্ষ্ম কঠিন কণা ও অণুজীব পানির ভেতর দিয়ে আলোর পথ বদলে দেয়। টার্বিডিটি মিটার সেই বদল মাপে এবং একটি রেফারেন্স সাসপেনশনের সঙ্গে মিলিয়ে সংখ্যা দেয়।
এটি কণার সংখ্যা গোনা নয়, আবার পানিতে কঠিন পদার্থের ওজনও নয়। কণার আকার, আকৃতি ও রং আলোর প্রতি নমুনার সাড়া বদলে দেয়।
সাদা সূক্ষ্ম কণার পানি আর বড় গাঢ় কণার পানিতে কঠিন পদার্থের ওজন সমান হলেও স্ক্যাটার্ড আলোর রিডিং আলাদা হতে পারে। তাই টার্বিডিটি সমান মানে ভেতরের পদার্থ সমান, এমন নয়।
টার্বিডিটি আবার কন্ডাক্টিভিটি (দ্রবীভূত আয়ন) ও pH (অম্লতা বা ক্ষারত্ব) থেকেও আলাদা। পরিষ্কার পানিতেও প্রচুর আয়ন থাকতে পারে। তাই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে কী সরাতে হবে আর কী নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেই অনুযায়ী একাধিক পানির মান-প্যারামিটার একসঙ্গে দেখা হয়।
টার্বিডিটি ইউনিট: জাপানি "ডিগ্রি" (do), NTU, FNU ও FAU
জাপানি স্পেসিফিকেশনে টার্বিডিটি প্রায়ই 度 (do, "ডিগ্রি") ইউনিটে লেখা থাকে। শুধু সংখ্যা যথেষ্ট নয়, ওই ডিগ্রি কোন স্ট্যান্ডার্ডে সংজ্ঞায়িত, তাও জানতে হবে। কাওলিন, ফর্মাজিন ও পলিস্টাইরিন-জাতীয় কণার স্ট্যান্ডার্ড আলাদা আলাদা রেফারেন্স ঠিক করে।
- ডিগ্রি (কাওলিন): 1 ডিগ্রি মানে, প্রতি লিটার বিশুদ্ধ পানিতে 1 mg স্ট্যান্ডার্ড কাওলিন থাকলে যে ঘোলাটে ভাব হয়। এই 1 mg/L স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের সঙ্গে মিলের কথা, আপনার নমুনার কণার প্রকৃত ভর-ঘনত্ব নয়।
- ডিগ্রি (ফর্মাজিন): ফর্মাজিন একটি পলিমার সাসপেনশন, যা টার্বিডিটি মিটার ক্যালিব্রেশনে ব্যবহার হয়। এটিও স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে তুলনা। একই নমুনায় কাওলিন ডিগ্রি ও ফর্মাজিন ডিগ্রির মান আলাদা আসে, এবং দুটির অনুপাত ধ্রুব নয়।
- ডিগ্রি (পলিস্টাইরিন): পলিস্টাইরিন-জাতীয় কণার স্ট্যান্ডার্ড জাপানের সরকারি ট্যাপ-ওয়াটার পরীক্ষায় ব্যবহার হয়। পরিবেশমন্ত্রীর নির্ধারিত পদ্ধতিতে একাধিক আকারের স্ট্যান্ডার্ড কণা মেশানো হয়।
চিত্র 1-এ জাপানি ও আন্তর্জাতিক যন্ত্রে যে ইউনিটগুলো দেখা যায়, সেগুলো দেওয়া হলো। প্রতিটি ইউনিট তার স্ট্যান্ডার্ড ও অপটিক্সের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন।
চিত্র 1: প্রতিটি টার্বিডিটি ইউনিট স্ট্যান্ডার্ড ও অপটিক্সসহ পড়ুন
একই স্ট্যান্ডার্ডে ক্যালিব্রেট করলেই আসল নমুনায় একই সাড়া পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
| ইউনিট | স্ট্যান্ডার্ড ও অপটিক্স | তুলনার আগে কী দেখবেন |
|---|---|---|
| ডিগ্রি (কাওলিন) | কাওলিন স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে তুলনা | নমুনার কণার ভর-ঘনত্বের সমান নয় |
| ডিগ্রি (ফর্মাজিন), FTU | ফর্মাজিন স্ট্যান্ডার্ড; অপটিক্যাল বিন্যাসও স্পেকে লিখে রাখুন | শুধু স্ট্যান্ডার্ড নয়, ডিটেকশন পদ্ধতিও মেলান |
| ডিগ্রি (পলিস্টাইরিন) | পলিস্টাইরিন-জাতীয় স্ট্যান্ডার্ড কণার সঙ্গে তুলনা | জাপানের সরকারি ট্যাপ-ওয়াটার পরীক্ষায় ব্যবহৃত; নির্ধারিত পদ্ধতি মানতে হয় |
| NTU | সাধারণত সাদা আলো, 90° স্ক্যাটার | পদ্ধতি (যেমন EPA 180.1) ও যন্ত্রের স্পেক দেখুন |
| FNU | নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো, 90° স্ক্যাটার | ISO 7027 পরিমাপ-শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত |
| FAU | নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো, অ্যাটেনুয়েশন (ডিটেক্টর রশ্মির সোজা লাইনে) | বেশি টার্বিডিটির জন্য; FNU-র সঙ্গে বদলানো যায় না |
কিছু যন্ত্রে পুরোনো ইউনিট-নাম থেকে গেছে। তাই ডিসপ্লের ইউনিট দেখে অপটিক্স অনুমান করবেন না।
NTU বনাম FNU: EPA 180.1 বনাম ISO 7027
NTU (nephelometric turbidity unit) সাদা আলোর নেফেলোমিটারের ইউনিট, সাধারণ রেফারেন্স মার্কিন EPA Method 180.1। FNU (formazin nephelometric unit) ISO 7027-1 অনুযায়ী তৈরি নিয়ার-ইনফ্রারেড যন্ত্রের ইউনিট। দুটোই 90° কোণে ছড়ানো আলো মাপে এবং ফর্মাজিনে ক্যালিব্রেট হয়। মূল পার্থক্য আলোর উৎসে।
নিচের টেবিলে অপটিক্যাল শর্ত সংক্ষেপে দেওয়া হলো। মানগুলো লেখার শেষের সূত্র থেকে নেওয়া। ডিজাইন বা কমপ্লায়েন্সের কাজে প্রতিটি স্ট্যান্ডার্ডের বর্তমান মূল পাঠ দেখে নিন।
| EPA 180.1 (NTU) | ISO 7027-1 (FNU / FAU) | |
|---|---|---|
| আলোর উৎস | টাংস্টেন ল্যাম্প, কালার টেম্পারেচার 2200–3000 K (সাদা আলো) | নিয়ার-ইনফ্রারেড, 860 nm, ব্যান্ডউইডথ 60 nm বা কম (দ্বিতীয় সূত্র) |
| ডিটেক্টর | রশ্মির সঙ্গে 90° (±30°), স্পেকট্রাল পিক 400–600 nm; মোট আলোর পথ 10 cm বা কম | FNU-র জন্য 90° (±2.5°); FAU-র জন্য রশ্মির সোজা লাইনে (অ্যাটেনুয়েশন) |
| পরিসর | 0–40 NTU; বেশি হলে ডাইলিউশন করে | নেফেলোমেট্রি সাধারণত 0.05-এর নিচ থেকে 400 FNU পর্যন্ত; অ্যাটেনুয়েশন সাধারণত 40–4,000 FAU |
| নমুনার রং | নমুনার রঙে বেশি প্রভাবিত হয় | রঙে কম প্রভাবিত, কারণ নিয়ার-ইনফ্রারেডে দ্রবীভূত রং কম শোষণ করে |
| কোথায় বেশি প্রচলিত | উত্তর আমেরিকার পানীয় জল ও বর্জ্য পানি | ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক |
ISO 7027-1 একই স্ক্যাটার্ড-আলো পদ্ধতির মধ্যে NTU ও FNU-কে সংখ্যায় সমতুল্য ধরে। এটা আলাদা অপটিক্সের দুটি যন্ত্রের রিডিং রূপান্তর করার কথা নয়। প্রাকৃতিক পানিতে কণার আকার, আকৃতি ও রং রিডিং বদলে দেয়, তাই একই নমুনায় সাদা আলোর মিটার আর ইনফ্রারেড মিটারের মান প্রায়ই মেলে না।
এই কারণে USGS ও ASTM D7315 প্রতিটি প্রযুক্তির নিজস্ব ইউনিটে (NTU, FNU, FNRU, FAU, FBU ইত্যাদি) রিপোর্ট করার কথা বলে। তবে পুরোনো যন্ত্র অপটিক্স যা-ই হোক, প্রায়ই "NTU" দেখাত। দুটি পরিস্থিতি আলাদা করে ভাবুন:
- একই মিটার, নতুন লেবেল: ডিসপ্লে NTU থেকে FNU করা হয়েছে, কিন্তু অপটিক্স বদলায়নি।
- আলাদা মিটার: নতুন মিটারের আলোর উৎস বা ডিটেক্টরের কোণ আলাদা। ক্যালিব্রেশনের পরও আসল নমুনায় রিডিং সরে যেতে পারে।
জাপানি ডিগ্রি থেকে NTU-তে রূপান্তর
"এক ডিগ্রি মানে কত NTU" প্রশ্নের কোনো সর্বজনীন গুণক নেই। ফর্মাজিন-ভিত্তিক ডিগ্রিও NTU-র সঙ্গে মেলে কেবল অপটিক্সও মিললে। কাওলিন ডিগ্রি বা ট্রান্সমিটেড আলোর রিডিং আলাদা ধরনের পরিমাপ। আপনি যা করতে পারেন:
- জাপানি মানটি কোন স্ট্যান্ডার্ডের ওপর ভিত্তি করে (কাওলিন, ফর্মাজিন বা পলিস্টাইরিন), তা জেনে নিন।
- যন্ত্রটি কোন অপটিক্স (ট্রান্সমিটেড, 90° স্ক্যাটার, অনুপাত, ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার বা সারফেস স্ক্যাটার) ও কোন আলোর উৎস ব্যবহার করে, তা জেনে নিন।
- পুরোনো ও নতুন যন্ত্র আলাদা হলে, কিছুদিন একই নমুনায় দুটি চালিয়ে মান তুলনা করুন।
জাপানের পানীয় জলের সীমা: 2 ডিগ্রি
জাপানে ট্যাপ-ওয়াটারের টার্বিডিটি মান 2 ডিগ্রি বা তার কম। আলাদা একটি "পানির মান ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য" (water quality management target) আছে, যেখানে 1 ডিগ্রি বা কম ধরা হয়। দুটি আলাদা শ্রেণি, তাই গুলিয়ে ফেলবেন না।
শুধু টার্বিডিটির সীমা মানলেই পানি পান করার জন্য নিরাপদ হয় না। পানীয় জলের মানে অণুজীব, রাসায়নিক ও আরও প্যারামিটার থাকে।
তুলনার জন্য: যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ও ডাইরেক্ট ফিল্ট্রেশনে মিলিত ফিল্টার এফ্লুয়েন্টের সীমা মাসিক মাপের অন্তত 95% ক্ষেত্রে 0.3 NTU, আর যেকোনো সময়ে 1 NTU। এই সীমা প্রক্রিয়ার অন্য জায়গায় প্রযোজ্য, তাই জাপানের ট্যাপ-ওয়াটার মানের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।
কোনো সীমাই প্ল্যান্টের বর্জ্য পানি বা প্রক্রিয়ার তরলে বসিয়ে দেওয়া যায় না। পানীয় জলের আইনি পরীক্ষা, প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের সীমা ও বর্জ্য নিঃসরণের অনুমতি, প্রতিটির নিজস্ব পরিধি ও নির্ধারিত পদ্ধতি আছে।
বাংলাদেশে কোন মান দেখবেন
বাংলাদেশে পানীয় জলের টার্বিডিটি NTU ইউনিটে বলা হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (DPHE) একটি পাতায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে টার্বিডিটি 10 NTU দেখানো আছে। আর BEZA-র একটি নথিতে ECR 2023 অনুযায়ী পানীয় জলের টার্বিডিটি 5.0 NTU লেখা।
একই নথিতে BSTI-র পানীয় জলের স্ট্যান্ডার্ড BDS 1240-এর 2021 সংস্করণের উল্লেখ আছে। এই মানগুলো দ্বিতীয় সূত্র থেকে নেওয়া। ব্যবহারের আগে আইন ও স্ট্যান্ডার্ডের বর্তমান মূল পাঠ দেখুন।
জাপানের "2 ডিগ্রি" আর বাংলাদেশের NTU-তে বলা মান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়, কারণ ইউনিট ও পরিমাপ পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। জাপানি যন্ত্রে স্থানীয় সীমা মেলাতে চাইলে সাপ্লায়ারের কাছে জানুন, যন্ত্রটি কোন পদ্ধতিতে (যেমন ISO 7027-1 বা EPA 180.1) NTU বা FNU দেখায়।
টার্বিডিটি বনাম TSS (সাসপেন্ডেড সলিড)
টোটাল সাসপেন্ডেড সলিড (TSS, জাপানে বলা হয় SS) হলো প্রতি আয়তনের নমুনায় ভাসমান পদার্থের ভর। নির্ধারিত পদ্ধতিতে নমুনা ফিল্টার করে, অবশিষ্টাংশ শুকিয়ে ওজন করা হয়। টার্বিডিটি অপটিক্যাল রিডিং, তাই দুটিকে আলাদা রাখুন।
কিছু টার্বিডিটি মিটার mg/L-এ SS দেখায়, কিন্তু তারা কিছু শুকায় বা ওজন করে না। তারা আসল নমুনা থেকে বের করা একটি সম্পর্ক দিয়ে টার্বিডিটিকে SS-এ রূপান্তর করে।
এখানে একটি কাল্পনিক উদাহরণ। ধরুন x হলো টার্বিডিটি (ডিগ্রি), y হলো SS (mg/L), আর আসল নমুনা থেকে পাওয়া সম্পর্ক y = 2 + 1.5x। ওই ধরনের নমুনা ও পরিসরে 20 ডিগ্রি রিডিংয়ে আনুমানিক SS হয় 32 mg/L।
2 ও 1.5 সহগ দুটি ব্যাখ্যার জন্য বানানো। নদীর কাদাপানিতে তৈরি সম্পর্ক যদি তেল বা পিগমেন্ট মেশানো প্রক্রিয়ার পানিতে বসানো হয়, তবে কণার পার্থক্য রূপান্তরের ভুল হয়ে দেখা দেয়।
সম্পর্ক তৈরির সময় একই নমুনার টার্বিডিটি ও SS জোড়ায় জোড়ায় মাপুন, পুরো নিয়ন্ত্রণ-পরিসর জুড়ে। শুধু সরলরেখার মতো দেখানো অংশ নয়, পরিসরের দুই প্রান্ত ও অস্বাভাবিক অবস্থাও দেখুন। কেমিক্যাল বা কাঁচামাল বদলালে রিডিংয়ের অর্থ বদলে যেতে পারে, তাই সমীকরণের সঙ্গে প্রক্রিয়া ও বৈধ পরিসর লিখে রাখুন।
টার্বিডিটি কীভাবে মাপা হয়: প্রধান পদ্ধতিগুলো
টার্বিডিটি মাপার পদ্ধতি সাধারণত চার ভাগে বলা হয়: ভিজ্যুয়াল, ট্রান্সমিটেড আলো, স্ক্যাটার্ড আলো ও ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার। সবগুলোই নমুনাকে রেফারেন্স টার্বিডিটির সঙ্গে তুলনা করে, কিন্তু আলোর আলাদা অংশ দেখে এবং আলাদা দিক থেকে সংগ্রহ করে।
ভিজ্যুয়াল টার্বিডিটিতে মিলানো তুলনা-টিউবে নমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড পাশাপাশি রেখে তুলনা করা হয়। আলোর উৎস, পটভূমি ও দেখার দিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। বোতল আলোর দিকে ধরে দেখার সঙ্গে এর মিল নেই।
জাপানে JIS K 0101 (শিল্পকারখানার পানি) ও JIS K 0102 (শিল্প বর্জ্য পানি) এখন JIS K 0102 সিরিজে একত্র করা হয়েছে। টার্বিডিটিসহ সাধারণ ভৌত-রাসায়নিক পরীক্ষা আছে JIS K 0102-1:2021 ও তার Amendment 1:2023-এ। স্বয়ংক্রিয় টার্বিডিটি মিটারের নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড JIS K 0801। এর বর্তমান সংস্করণ ও শর্ত সাপ্লায়ার বা জাপানি স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে যাচাই করুন।
BSTI-র কোনো স্ট্যান্ডার্ড JIS K 0801-এর সঙ্গে মেলে কি না, তা এই লেখা তৈরির সময় যাচাই করা যায়নি। তাই ISO 7027-1 বা EPA 180.1 অনুসরণ করা যন্ত্র চাইলে সাপ্লায়ারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চিতকরণ নিন।
জাপানের ট্যাপ-ওয়াটার পরীক্ষায় পরিবেশমন্ত্রীর নির্ধারিত পদ্ধতি ব্যবহার হয়। পরিমাপের নীতি জানা এক জিনিস, আর নির্ধারিত পরীক্ষা-পদ্ধতি মেনে চলা আরেক জিনিস। পরীক্ষার উদ্দেশ্য দেখে ঠিক করুন কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য।
যেকোনো অপটিক্যাল মিটারে আলোর উৎস, নমুনা ও ডিটেক্টরের অবস্থানই রিডিং ঠিক করে।
ট্রান্সমিটেড আলো (টার্বিডিমেট্রি)
ট্রান্সমিটেড-আলোর মিটার নমুনার ভেতর দিয়ে আলো পাঠায় এবং উল্টো দিকের ডিটেক্টরে কতটা পৌঁছাল তা মাপে। কণা আলোকে সোজা পথ থেকে ছড়িয়ে দেয়, তাই টার্বিডিটি বাড়লে ডিটেক্টরে কম আলো পৌঁছায়। জাপানি ভাষায় এই পদ্ধতির নাম tōkakō-hō।
মাঝারি থেকে বেশি টার্বিডিটিতে এই মিটার ব্যবহার হয়, তবে ব্যবহারযোগ্য পরিসর নির্ভর করে আলোর পথের দৈর্ঘ্য ও ডিটেক্টরের ওপর। যেহেতু মিটার আলোর ক্ষয় পড়ে, কণা ছাড়া অন্য কিছুর শোষণ এবং অপটিক্যাল জানালার ময়লাও রিডিংকে প্রভাবিত করে।
চিত্র 2: ট্রান্সমিটেড আলো মাপে উল্টো দিকে কতটা আলো পৌঁছাল
নমুনার রং বা জানালার ময়লায় হারানো আলো কণার কারণে হারানো আলোর সঙ্গে যোগ হয়।
প্রায় পরিষ্কার পানিতে কণা ট্রান্সমিটেড আলোকে সামান্যই বদলায়। পটভূমির আলোর মাত্রা ও সেলে সেলে পার্থক্যের মাঝে সংকেতটি হারিয়ে যেতে পারে। কম টার্বিডিটি এই পদ্ধতিতে মাপা কঠিন কেন, তার কারণ এটাই।
উল্টো প্রান্তে, পানি এত ঘোলা হলে যে প্রায় কোনো আলো পৌঁছায় না, তখন পড়ার মতো পরিবর্তন থাকে না। "বেশি টার্বিডিটির জন্য উপযুক্ত" মানে সীমাহীন নয়, যন্ত্রের কার্যকর পরিসর দেখে নিন।
- রং: কণা কম কিন্তু রঙিন পানিতেও শোষণের কারণে ট্রান্সমিটেড আলো কমতে পারে। রঙের পরিবর্তনকে টার্বিডিটির পরিবর্তন ভেবে না ফেলতে আসল নমুনায় মিটারের সাড়া মিলিয়ে দেখুন।
- সেলের অবস্থা: সেলে আঙুলের ছাপ, পানির ফোঁটা বা সূক্ষ্ম আঁচড় রিডিং সরিয়ে দেয়। নমুনাকে সন্দেহ করার আগে পরিষ্কার সেলে, একই দিকে ও একই শর্তে আবার মাপুন।
- রাসায়নিক বিশ্লেষণ নয়: কালারিমেট্রিক অ্যানালাইজার (যেমন সিলিকা অ্যানালাইজার) ও ট্রান্সমিটেড আলো মাপে। কিন্তু সেগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি রং পড়ে নির্দিষ্ট উপাদান বের করে।
স্ক্যাটার্ড আলো (নেফেলোমেট্রি)
স্ক্যাটার্ড-আলোর মিটার কণায় বেঁকে যাওয়া আলো মাপে, একটি নির্দিষ্ট কোণে বসানো ডিটেক্টর দিয়ে। প্রচলিত সাইড-স্ক্যাটার ডিজাইনে আপতিত রশ্মির সঙ্গে 90° কোণের আলো ধরা হয়। জাপানি নাম sanrankō-hō।
প্রায় পরিষ্কার পানিতে প্রতিটি বাড়তি কণা স্ক্যাটার্ড আলো বাড়ায়, যা সহজে ধরা যায়। তাই কম টার্বিডিটিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়। ট্রান্সমিটেড আলোর সামান্য কমে যাওয়া পড়ার চেয়ে এর সংকেতের ধরন আলাদা।
স্ক্যাটার্ড আলো শুধু আয়নার মতো এক দিকের প্রতিফলন নয়। কণা আলো নানা দিকে পাঠায়, আর মিটার কোন কোণ বেছে নিয়েছে তার ওপর নির্ভর করে কণার আকারসহ অন্য বৈশিষ্ট্যে সাড়া বদলে যায়।
টার্বিডিটি বাড়লে পরিমাপ-অঞ্চলে কম আপতিত আলো পৌঁছায়, আর ছড়ানো আলোও ডিটেক্টরের পথে দুর্বল হয়ে যায়। তখন টার্বিডিটি ও ধরা আলোর সম্পর্ক আর সরল সমানুপাতিক থাকে না।
রিডিং ফুল স্কেলের নিচে আছে বলেই পরিমাপ সঠিক, এমন প্রমাণ হয় না। মাল্টিপল স্ক্যাটারিংসহ সিস্টেমের সাড়া বিবেচনা করুন, আর যন্ত্রের স্পেক বা পরীক্ষা-পদ্ধতি অনুযায়ী ডাইলিউশন করুন।
নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান রঙের প্রভাব কমাতে পারে। কণার শোষণ ও বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য তবু থেকে যায়, তাই যে পানি মাপবেন তার আসল নমুনায় মিটার পরীক্ষা করে নিন।
চিত্র 3: পাশের স্ক্যাটার্ড আলো আর সোজা পথের আলোর আলাদা ডিটেক্টর
S মাপা হয় 90° কোণে, T রশ্মির পথ বরাবর। অনুপাত-পদ্ধতির যন্ত্র দুটোই ব্যবহার করে।
অনুপাত পদ্ধতি (স্ক্যাটার্ড ও ট্রান্সমিটেড আলো)
অনুপাত-মিটার ট্রান্সমিটেড ও স্ক্যাটার্ড আলো দুটোই মাপে এবং তাদের অনুপাত ব্যবহার করে। ল্যাম্পের উজ্জ্বলতা বা নমুনার রং যদি দুই সংকেতেই সমানভাবে কাজ করে, তবে অনুপাতে সেই প্রভাবের বড় অংশ কাটা যায়। জাপানি নাম tōka sanrankō-hōshiki।
এর মানে এই নয় যে অনুপাত পদ্ধতি সব নমুনায় সবচেয়ে নির্ভুল। কণা, নমুনার রং, প্রয়োজনীয় পরিসর ও নির্ধারিত পরীক্ষা-পদ্ধতি দেখে পদ্ধতি বাছুন। ASTM D7315 ও USGS এই ডিজাইনগুলো নিজস্ব ইউনিটে, যেমন NTRU (সাদা আলো) ও FNRU (নিয়ার-ইনফ্রারেড), রিপোর্ট করে।
একটি সহজ শিক্ষামূলক উদাহরণ: স্ক্যাটার্ড সংকেত 20 আর ট্রান্সমিটেড সংকেত 80 হলে অনুপাত 0.25। ল্যাম্প ম্লান হয়ে দুটোই 0.8 গুণ হলে সংকেত হয় 16 ও 64, আর অনুপাত থাকে 0.25।
এবার শুধু স্ক্যাটার্ড দিকে 4 মানের একটি বুদবুদের সংকেত যোগ করুন। অনুপাত হয় 24 ÷ 80 = 0.30। অনুপাত সব বিঘ্ন সারায় না, কেবল যেগুলো দুই সংকেতে সমানভাবে কাজ করে সেগুলো।
আসল যন্ত্র নিজস্ব অপটিক্যাল বিন্যাস ও সংশোধন পদ্ধতিসহ ক্যালিব্রেট করা হয়। শুধু সরল S/T সূত্র দেখে ধরে নেবেন না যে সব মডেল একই পরিসর একই নির্ভুলতায় মাপে। প্রতিটি মডেলের কার্যক্ষমতা আলাদা করে তুলনা করুন।
ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার ও সারফেস স্ক্যাটার
ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার মিটারে এমন একটি গোলকের ভেতরে নমুনা-পেরোনো আলো জমা হয়, যার ভেতরের দেয়াল আলোকে ছড়িয়ে প্রতিফলিত করে। এক কোণের স্ক্যাটার মিটারের চেয়ে এটি অনেক বেশি দিক থেকে আলো সংগ্রহ করে।
স্ক্যাটার্ড আলো ও মোট ট্রান্সমিটেড আলোর অনুপাতের মতো রাশি থেকে এটি টার্বিডিটি মূল্যায়ন করে। নীতিটি বুঝতে শুধু গোলক আছে কি না না দেখে, যন্ত্রটি আলোর কোন উপাদান আলাদা করে ধরছে তা দেখুন।
চিত্র 4: ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার ছড়ানো প্রতিফলনে আলো জমায়
নমুনা থেকে বেরোনো আলো গোলকের ভেতরে প্রতিফলিত হয়ে ডিটেক্টরে পৌঁছায়। আলোর পথের ধারণাগত প্রস্থচ্ছেদ।
সারফেস-স্ক্যাটার মিটার পানির উপরিতলে বা তার কাছে ছড়ানো আলো, সাধারণত ওপর থেকে, ধরে। যে ডিজাইনে অপটিক্স নমুনায় ডোবানো থাকে না, সেখানে নমুনার সংস্পর্শে থাকা সেল-জানালায় ময়লা জমার সমস্যা এড়ানো যায়।
উপরিতলে ফেনা বা ভাসমান আবর্জনা থাকলে তবু রিডিং প্রভাবিত হয়। Yokogawa-র বুদবুদ-বিষয়ক টেকনিক্যাল নোটে থেমে থেমে আসা বুদবুদ দমনের সিগন্যাল প্রসেসিং এবং তা কোন শর্তে খাটে, তা বলা আছে।
অপটিক্স নমুনা ছোঁয় না বলে পুরো যন্ত্রে রক্ষণাবেক্ষণ লাগে না, এমন নয়। নমুনার প্রবাহ, পানির লেভেল ও ড্রেন স্থির রাখুন, আর পরিমাপের তলে ফেনা জমতে দেবেন না।
পরিমাপ পদ্ধতি বাছাই
শুরুতে উদ্দেশ্য আর কত টার্বিডিটি পরিসর দরকার, তা ঠিক করুন। পানীয় জলের পরীক্ষা, কাঁচা পানির নজরদারি, প্রক্রিয়ার পানির নিয়ন্ত্রণ ও খুব ঘোলা বর্জ্য পানির মনিটরিং, প্রতিটির দরকারি কার্যক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা আলাদা।
আইন বা চুক্তিতে পদ্ধতি নির্ধারিত থাকলে সেই পদ্ধতি মানাই শুরুর বিন্দু। বেশি পরিসরের মিটারও অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করলে কমপ্লায়েন্সের জন্য সমতুল্য মান দিতে পারে না।
প্রক্রিয়ার মনিটরিংয়ে শুধু স্বাভাবিক চলার সময় নয়, স্টার্টআপ ও গোলযোগের সময় পানি কত ঘোলা হয়, তাও জানুন। স্বাভাবিক মানের জন্য রাখা সংকীর্ণ পরিসরে গোলযোগ কতটা খারাপ ছিল তা রেকর্ড করা যায় না।
মিটার বদলানোর সময় কিছুদিন পুরোনো ও নতুন যন্ত্র একই নমুনায় পাশাপাশি চালান, ডেটার ধারাবাহিকতা দেখতে। স্ট্যান্ডার্ডে মিললেই যথেষ্ট নয়। বৃষ্টি বা কাঁচামাল বদলের মতো যে সময়ে কণা নিজেই বদলায়, সেই সময়ের রেকর্ডও রাখুন।
তুলনায় পার্থক্য এলে পুরোনো নিয়ন্ত্রণ-সীমা বসানোর আগে সেই সীমা কোন পদ্ধতিতে ঠিক হয়েছিল তা খুঁজে বের করুন। "প্রক্রিয়া বদলেছে" আর "মিটার ভিন্নভাবে সাড়া দিচ্ছে" আলাদা করলে ভুল অ্যালার্ম সেটপয়েন্ট উত্তরাধিকারসূত্রে আসা ঠেকানো যায়।
স্পেসিফিকেশনে শুধু টার্বিডিটির উপরের ও নিচের সীমা লিখলে হয় না। এগুলোও লিখুন:
- ক্যালিব্রেশন স্ট্যান্ডার্ড ও অপটিক্যাল পদ্ধতি
- পরিমাপ-বিন্দুতে পানির তাপমাত্রা ও চাপ
- আউটপুট স্কেলিং (4–20 mA-র দুই প্রান্ত কী বোঝায়)
- রক্ষণাবেক্ষণের সময় আউটপুট কী আচরণ করে
এগুলো স্পেকে থাকলে ডেলিভারি থেকে পাশাপাশি তুলনা পরীক্ষা পর্যন্ত সবকিছু একই শর্তে চলে।
পদ্ধতির তুলনা
টেবিলে দেখুন প্রতিটি পদ্ধতি কী পড়ে এবং কোন শর্ত যাচাই করতে হবে।
| পদ্ধতি | যে আলো পড়ে | সাধারণ ব্যবহার | যাচাইয়ের শর্ত |
|---|---|---|---|
| ভিজ্যুয়াল | স্ট্যান্ডার্ড ও নমুনার চেহারা | নির্ধারিত পদ্ধতিতে তুলনা-পরীক্ষা | আলো, পটভূমি, দেখার শর্ত |
| ট্রান্সমিটেড আলো | সোজা পথের আলোর ক্ষয় | মাঝারি থেকে বেশি টার্বিডিটির মনিটরিং | রং, জানালার ময়লা, আলোর পথের দৈর্ঘ্য |
| স্ক্যাটার্ড আলো | নির্দিষ্ট কোণে ছড়ানো আলো | কম টার্বিডিটিসহ পরিমাপ | তরঙ্গদৈর্ঘ্য, ডিটেক্টরের কোণ, মাল্টিপল স্ক্যাটারিং |
| ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার | গোলকে জমা ট্রান্সমিটেড ও স্ক্যাটার্ড উপাদান | নির্ধারিত পদ্ধতিতে নমুনা পরিমাপ | গোলক, অপটিক্স, ক্যালিব্রেশনের শর্ত |
| অনুপাত (স্ক্যাটার্ড/ট্রান্সমিটেড) | স্ক্যাটার্ড ও ট্রান্সমিটেড আলোর অনুপাত | রঙের প্রভাব কমিয়ে মনিটরিং | যে বিঘ্ন দুই সংকেতে সমানভাবে কাজ করে না |
| সারফেস স্ক্যাটার | পানির উপরিতলের কাছে ছড়ানো আলো | সংস্পর্শে থাকা জানালা ছাড়া ক্রমাগত পরিমাপ | ফেনা, ভাসমান আবর্জনা, প্রবাহ, পানির লেভেল |
নমুনার সঙ্গে পদ্ধতি মেলান:
- কম টার্বিডিটি: জিরো পয়েন্টের স্থিরতা, বাইরের আলো আটকানো ও পরিষ্কার সেল জরুরি। ডিসপ্লের শেষ অঙ্ক না দেখে, লক্ষ্য-মানের আশেপাশে রিডিং কতটা ওঠানামা করে তা দেখুন।
- বেশি টার্বিডিটি: আলো কতদূর ঢোকে, ডিটেক্টরের বিন্যাস ও কণা থিতিয়ে পড়ার গতি, সবই গুরুত্বপূর্ণ। মনিটরিং ডিজাইনের অংশ হিসেবে ঠিক করুন, ওভার-রেঞ্জ রিডিং উপরের সীমায় থাকবে, নাকি ফল্ট সংকেত দেবে।
- রঙিন পানি: কণা বাড়া আর দ্রবীভূত রঞ্জক বাড়া আলাদাভাবে যাচাই করুন। সংশোধন থাকলেও রং বা কণা বদলালে সাড়া বদলায়, তাই স্বাভাবিক পানি ও গোলযোগের পানি, দুটোতেই পরীক্ষা করুন।
- তেলের ফোঁটা বা ফ্লক: মেশানোর তীব্রতা নমুনাকে বদলে দিতে পারে। পরীক্ষার শর্ত লিখে রাখুন এবং নমুনা নেওয়া থেকে পরিমাপ পর্যন্ত একই ভাবে সামলান।
অনলাইন টার্বিডিটি মিটারের স্যাম্পল লাইন ডিজাইন

অনলাইন টার্বিডিটি মিটার শুধু সেই পানিই মাপে, যা তার সেন্সরে পৌঁছায়। স্যাম্পল লাইনে কণা থিতিয়ে বা লেগে গেলে মিটার প্রক্রিয়ার আসল পানি থেকে আলাদা পানি দেখে। জাপানি নাম saisui keitō।
এমন নমুনা-বিন্দু বাছুন যেখানে প্রক্রিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী পানি বয়ে যায়। ট্যাংকের কোণ আর আউটলেট পাইপে কণার চলন আলাদা, তাই শুধু বসানো সহজ কি না না দেখে, স্থির অঞ্চল ও থিতিয়ে পড়ার সম্ভাবনা যাচাই করুন।
লম্বা সরু স্যাম্পল লাইন বিলম্ব বাড়ায় এবং কণার থিতানো বা লেগে থাকার সুযোগও বাড়ায়। দৈর্ঘ্য, ব্যাস ও প্রবাহ একসঙ্গে পরিকল্পনা করুন। ফ্লাশিং আর ব্লকেজ পরীক্ষার জন্য একটি পথও রাখুন।
চিত্র 5: স্যাম্পল লাইনে কণার প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে এবং বুদবুদও সরাতে হবে
প্রক্রিয়ার ট্যাপ থেকে ড্রেন পর্যন্ত পুরোটাকে একটি পরিমাপ-সিস্টেম হিসেবে দেখুন। কণা থিতানো, বুদবুদ ও আটকে থাকা পানি, সবই রিডিংকে প্রভাবিত করে।
ধারণাগত বিন্যাস; নির্দিষ্ট যন্ত্রের প্রবাহ ও চাপের পরিসর অনুসরণ করুন। ডিবাবলার এমনভাবে ডিজাইন করুন, যাতে তাতে কণা থিতিয়ে না পড়ে।
চাপ কমলে দ্রবীভূত গ্যাস বেরিয়ে আসে, আবার পাম্প ও ফিটিংসে বাতাস ঢুকে যেতে পারে। দুটোতেই বুদবুদ হয়ে আলো ছড়ায়। কণা না বাড়লেও রিডিং হঠাৎ লাফিয়ে উঠতে পারে।
বুদবুদ সরাতে প্রবাহ ও চাপ স্থির রাখুন এবং যন্ত্রের জন্য ডিজাইন করা সেপারেটর ব্যবহার করুন। তবে নমুনা বেশি সময় স্থির রাখলে কণাও থিতিয়ে যায়, আর আপনি যে টার্বিডিটি মাপতে চান সেটাই বদলে যায়।
বেশি প্রবাহ মানেই ভালো নয়, অতিরিক্ত প্রবাহে বুদবুদ ও অস্থির পানির উপরিতল তৈরি হয়। প্রবাহ ও চাপ সেন্সরের নির্ধারিত পরিসরে রাখুন এবং সেই সেটিংয়ে সরবরাহ স্থির না হওয়া পর্যন্ত সমন্বয় করুন।
স্যাম্পল লাইনের বিলম্ব অ্যালার্মের সাড়াও ধীর করে। লাইন ও সেলে আটকে থাকা পানির আয়তন বেশি হলে, সেন্সর দ্রুত হলেও প্রক্রিয়ার পরিবর্তন দেখা যেতে সময় লাগে।
ল্যাবের ফল ও অনলাইন রিডিং তুলনার সময় একই সময়ে নেওয়া নমুনার জোড় নিন। নমুনা-বিন্দু থেকে সেল পর্যন্ত বিলম্বও হিসাবে ধরুন। না হলে পরিবর্তনের মধ্যে আলাদা আলাদা পানির মান তুলনা করে সেটাকে "মিটারের ভুল" বলে ফেলতে পারেন।
টার্বিডিটি মিটার ক্যালিব্রেশন: ফর্মাজিন, StablCal ও অন্য স্ট্যান্ডার্ড
ক্যালিব্রেশন মানে মিটারের সাড়াকে একটি নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে মেলানো। নমুনায় পছন্দের মান না আসা পর্যন্ত মিটার সামঞ্জস্য করা এটা নয়। প্রতিবার স্ট্যান্ডার্ডের ধরন, মান ও ব্যাচ (lot) লিখে রাখুন।
- পরিষ্কার দিয়ে শুরু। অপটিক্স ও নমুনার পথ পরিষ্কার করুন, তারপর নির্ধারিত জিরো ওয়াটারে রিডিং স্থির হতে দিন। ময়লা জানালা নিয়ে জিরো সেট করলে সেই ময়লাই রেফারেন্সের অংশ হয়ে যায়।
- নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডে স্প্যান। প্রস্তুতকারক বা পদ্ধতি যে স্ট্যান্ডার্ড দ্রবণ বা স্ট্যান্ডার্ড প্লেট ঠিক করেছে তা ব্যবহার করুন। সাধারণ পছন্দ হলো ফর্মাজিন, স্থিতিশীল ফর্মাজিন (যেমন Hach StablCal) ও পলিস্টাইরিন-জাতীয় কণার স্ট্যান্ডার্ড। ক্রমাগত ট্যাপ-ওয়াটার মনিটরিংয়ে জাপানের পদ্ধতি স্ট্যান্ডার্ড প্লেটে ক্যালিব্রেশনও অনুমোদন করে। তবে প্লেটের ওপর ভরসা করার আগে নিশ্চিত করুন যে প্লেট ও স্ট্যান্ডার্ড দ্রবণের মান মেলে।
- নিয়ন্ত্রণ-মানের কাছাকাছি যাচাই। জিরো ও বেশি মান, দুটো বিন্দু মিললেই মাঝের অংশে মিটার কাজের উপযুক্ত প্রমাণ হয় না। আপনি যে মানে নিয়ন্ত্রণ করেন তার কাছাকাছি সাড়া যাচাই করুন।
- আগে ও পরে রেকর্ড। পরিষ্কারের আগে ও পরে, এবং ক্যালিব্রেশনের আগে ও পরে রিডিং আলাদা করে লিখুন। এতে বোঝা যায়, শুধু পরিষ্কারেই রিডিং ফিরেছে, নাকি জিরো ও সেনসিটিভিটিও সরে গিয়েছিল। এই তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবধান ঠিক করতেও কাজে লাগে।
স্ট্যান্ডার্ড ডাইলিউশন
ডাইলিউশন করে স্ট্যান্ডার্ডের সিরিজ বানালে স্টক মান, নেওয়া আয়তন ও চূড়ান্ত আয়তন একসঙ্গে মিলিয়ে নিন। চূড়ান্ত আয়তন মানে মার্ক পর্যন্ত পানি ভরার পরের মোট আয়তন।
চিত্র 6: 100 do স্টক থেকে 10 do স্ট্যান্ডার্ড বানানো
10 mL স্টক নিয়ে মোট 100 mL করলে পাওয়া যায় 10 do। বাস্তবে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড ও পদ্ধতি মেনে চলুন।
10 mL স্টকে 100 mL পানি মেশালে মোট আয়তন প্রায় 110 mL হয়, 100 mL নয়। মার্ক পর্যন্ত ভরা আর নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি যোগ করা, দুটো আলাদা কাজ।
সংরক্ষণের সময় থিতিয়ে যাওয়া সাসপেনশনের শুধু ওপরের স্তর নিলে ভুল মান আসে। নির্ধারিত মেশানোর পদ্ধতি ও মেয়াদের তারিখ মানুন, আর পাত্র ও যন্ত্রপাতি থেকে বাইরের কণা ঢুকতে দেবেন না।
কাঁচা রিএজেন্ট থেকে ফর্মাজিন বানাতে বিপজ্জনক রাসায়নিক লাগে। এর একটি হাইড্রাজিন সালফেট অত্যন্ত বিষাক্ত, আর ফর্মাজিনে অবশিষ্ট হাইড্রাজিন সালফেট থাকতে পারে। সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ-নোট দেখে এটি বানাবেন না। নির্ধারিত পরীক্ষা-পদ্ধতি, সেফটি ডেটা শিট (SDS) ও আপনার কারখানার রাসায়নিক-সামলানোর নিয়ম মানুন।
রাসায়নিকের ব্যবহারে Bangladesh Labour Act 2006-এর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান এবং কারখানার সেফটি অফিসারের নির্দেশও মেনে চলুন। প্রস্তুত স্ট্যান্ডার্ড কিনে নেওয়া সাধারণত নিরাপদ বিকল্প। নির্দিষ্ট ধারার প্রয়োগ আপনার কারখানার সেফটি অফিসারের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
4–20 mA স্কেলিং ও অ্যালার্ম ডিজাইন
মিটার যখন কন্ট্রোল সিস্টেমে মান পাঠায়, তখন ডিসপ্লের পরিসর ও পাঠানো পরিসর মিলতে হবে। 4–20 mA-তে মিটার ও গ্রহণকারী সিস্টেম, দুজনকেই একমত হতে হয় যে দুই প্রান্তে কত টার্বিডিটি বোঝায়।
একটি কাল্পনিক ক্ষেত্রে 0–20 do-কে 4–20 mA-তে স্কেল করা হয়েছে, তাই 12 mA মানে মাঝামাঝি, 10 do। গ্রহণকারী দিকে যদি এখনো 0–100 সেট থাকে, তবে একই 12 mA দেখাবে 50।
ইউনিটের লেবেলও দেখুন। ট্রান্সমিটার ফর্মাজিন ডিগ্রিতে আউটপুট দিলে আর কন্ট্রোল সিস্টেমের ট্যাগে NTU লেখা থাকলে, সংখ্যা ঠিক মনে হলেও ভিত্তি আলাদা। সিগন্যাল ঠিক থাকা মানেই নমুনা সংগ্রহ বা অপটিক্স ঠিক, এমন নয়। তাই নমুনার দিক ও সিগন্যালের দিক আলাদা করে যাচাই করুন।
অ্যালার্ম সেট করার সময় এই বিষয়গুলো দেখুন:
- পরিসর: শুধু স্বাভাবিক মান নয়, স্টার্টআপ ও গোলযোগের মাত্রাও ঢাকুন।
- ওভার-রেঞ্জ ও ফল্ট সংকেত: জিজ্ঞেস করুন, আউটপুট উপরের সীমায় আটকে থাকে নাকি ফল্ট কারেন্টে যায়। কিছু ট্রান্সমিটার NAMUR NE 43 সংকেত-স্তর ব্যবহার করে, কিন্তু আসল কারেন্ট যন্ত্র ও তার সেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই সাপ্লায়ারের কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন।
- অ্যাভারেজিং ও বুদবুদ বাদ দেওয়া: বেশি ফিল্টারিংয়ে ক্ষণস্থায়ী স্পাইক চাপা পড়ে, আসল পরিবর্তনও দেরিতে ধরা পড়ে। অ্যালার্ম কীসের জন্য, সেই অনুযায়ী সাড়ার গতি ও ভুল অ্যালার্ম দমন ঠিক করুন।
- রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা: টার্বিডিটির পাশাপাশি মিটারের ফল্ট ও পরিষ্কারের অবস্থাও রেকর্ড করুন। কন্ট্রোল সিস্টেমে স্বাভাবিক রিডিং আর রক্ষণাবেক্ষণের সময়ের রিডিং একই ভাবে লগ হলে, পরে কেউ পানির মানের পরিবর্তন ভুল বুঝবে।
- তাৎক্ষণিক মান: টার্বিডিটি ওই মুহূর্তের পানির অবস্থা দেখায়। সময়ের ওপর যোগ করলে কণার ভর পাওয়া যায় না। দূষণের মোট পরিমাণ লাগলে প্রবাহ ও ঘনত্ব ঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করুন।
লক্ষণ ধরে টার্বিডিটি রিডিংয়ের সমস্যা খোঁজা
লক্ষণ থেকে সম্ভাব্য কারণের দিকে যান। বুদবুদ, ময়লা জমা, স্ট্যান্ডার্ড ও স্যাম্পল লাইনই সাধারণত প্রথম দেখার জায়গা।
| লক্ষণ | প্রথমে কী দেখবেন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| অল্প সময়ের স্পাইক | বুদবুদ, বড় কণা পেরিয়ে যাওয়া, বাইরের আলো | স্পাইক প্রক্রিয়ার প্রবাহ বা চাপ বদলের সময়ের সঙ্গে মিলে গেলে স্যাম্পল লাইন সন্দেহ করুন। |
| ধীরে ধীরে সরে যাওয়া | জানালায় ময়লা বা জমা, স্ট্যান্ডার্ডের অবস্থা, আলোর উৎসের বয়স | পরিষ্কারের আগের রিডিং লিখে রাখুন, যাতে একসঙ্গে জিরো ও স্প্যান রিসেট করে কারণ হারিয়ে না ফেলেন। |
| শুধু পরিষ্কারের ঠিক পরে কম | সেলে রয়ে যাওয়া ধোয়ার পানি নমুনাকে পাতলা করছে | নমুনায় ফেরার সময় ও স্থির হতে কত সময় লাগল লিখুন; পরিষ্কারের সময়কাল আলাদা চিহ্নিত করুন। |
| ল্যাবের ফল থেকে ধ্রুব অনুপাতে আলাদা | স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তি, অপটিক্যাল পদ্ধতি, আউটপুট রেঞ্জ সেটিং | সেনসিটিভিটি বদলানোর আগে নিশ্চিত হন যে দুই দিকে একই রাশি মাপা হচ্ছে। |
| একই নমুনায় পুনরাবৃত্তি ভালো নয় | থিতানো, ফ্লকুলেশন, সেলের দিক, বুদবুদ | মেশানোর পদ্ধতি ও পরিমাপের আগের অপেক্ষার সময় ঠিক করে নিন। |
| প্রক্রিয়া বদলানোর পর সম্পর্ক ভেঙে যায় | কণার বৈশিষ্ট্য বা রং বদলেছে | মিটার নষ্ট ধরে নেবেন না; আসল নমুনায় টার্বিডিটি ও অন্য দরকারি প্যারামিটার আবার মাপুন। |
চেকলিস্ট: জাপানি টার্বিডিটি মিটারের স্পেক পর্যালোচনা
জাপান থেকে ডেটাশিট, P&ID বা অপারেটিং ডেটা পেলে এই তালিকা ব্যবহার করুন।
- ইউনিট: 度 (ডিগ্রি), NTU, FNU, FTU বা FAU, এবং লেবেলটি আসল অপটিক্স প্রকাশ করে কি না
- স্ট্যান্ডার্ড: কাওলিন, ফর্মাজিন, স্থিতিশীল ফর্মাজিন, পলিস্টাইরিন-জাতীয় কণা বা স্ট্যান্ডার্ড প্লেট
- অপটিক্স: ট্রান্সমিটেড, 90° স্ক্যাটার, অনুপাত, ইন্টিগ্রেটিং স্পিয়ার বা সারফেস স্ক্যাটার; আলোর উৎস (সাদা আলো না নিয়ার-ইনফ্রারেড)
- পদ্ধতির রেফারেন্স: JIS K 0102-1, JIS K 0801, জাপানের ট্যাপ-ওয়াটার পরীক্ষা-পদ্ধতি, EPA 180.1 বা ISO 7027-1
- পরিসর: স্বাভাবিক, স্টার্টআপ ও গোলযোগের মাত্রা ঢাকে কি না
- আউটপুট: 4–20 mA-র দুই প্রান্ত, ওভার-রেঞ্জের আচরণ, ফল্ট কারেন্ট ও রক্ষণাবেক্ষণের সময়ের আচরণ
- কন্ট্রোল সিস্টেম: গ্রহণকারী দিকে একই পরিসর ও একই ইউনিট-লেবেল
- অ্যালার্ম: সেটপয়েন্ট, কোন পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে, এবং অ্যাভারেজিং বা বুদবুদ বাদ দেওয়ার সেটিং
- স্যাম্পল লাইন: নমুনা-বিন্দু, প্রবাহ ও চাপের পরিসর, ডিবাবলার, বিলম্বের সময়, ড্রেন
- ক্যালিব্রেশন: স্ট্যান্ডার্ডের মান, কত ঘন ঘন, নিয়ন্ত্রণ-মানের কাছে যাচাই ও রেকর্ডের ফরম্যাট
- SS ডিসপ্লে (থাকলে): সম্পর্কের সমীকরণ, কোন নমুনার ওপর ভিত্তি করে ও বৈধ পরিসর
জাপানি সাপ্লায়ারকে করার প্রশ্ন
যন্ত্র জাহাজে ওঠার আগে, বা কোনো অ্যালার্ম সেটপয়েন্ট নিজের সিস্টেমে নেওয়ার আগে এগুলো জিজ্ঞেস করুন।
- টার্বিডিটির মান কোন স্ট্যান্ডার্ডের ওপর ভিত্তি করে: কাওলিন, ফর্মাজিন, না পলিস্টাইরিন?
- মিটার কোন পরিমাপ-নীতি ও আলোর উৎস ব্যবহার করে? এটি কি JIS K 0801, ISO 7027-1 বা অন্য কোনো পদ্ধতি অনুযায়ী তৈরি?
- মিটার কি NTU বা FNU-তে দেখাতে ও পাঠাতে পারে? পারলে তাতে অপটিক্স বদলায়, নাকি শুধু লেবেল?
- 4 mA ও 20 mA-তে কোন টার্বিডিটি মান ধরা? ওভার-রেঞ্জে ও ফল্টে মিটার কত কারেন্ট দেয়?
- পরিষ্কার ও ক্যালিব্রেশনের সময় আউটপুট কী করে (হোল্ড, শেষ মান, নাকি লাইভ)?
- কোন স্ট্যান্ডার্ড ও কোন ক্যালিব্রেশন-বিন্দু আপনারা সুপারিশ করেন, আর কত ঘন ঘন?
- অ্যালার্ম সেটপয়েন্ট কীভাবে ঠিক হয়েছে, এবং কোন পদ্ধতি ও ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে?
- মিটার mg/L-এ SS দেখালে সম্পর্কটি কোন নমুনার ওপর, কোন পরিসরে বানানো?
সাপ্লায়ারকে নমুনা ইমেইল
নিচের ছোট ইমেইলটি আপনার প্রয়োজনমতো বদলে নিতে পারেন। সাপ্লায়ারকে ইংরেজিতে পাঠানোর জন্য এটি ইংরেজিতেই দেওয়া হলো। বন্ধনীর অংশ নিজের তথ্য দিয়ে বদলান।
Subject: Turbidity meter [tag no.] – units, calibration, and 4–20 mA scaling
Dear [Name],
We are integrating the turbidity meter [model / tag no.] into our control system, and our plant reports turbidity in [NTU / FNU]. Could you please confirm the following?
1. The standard behind the "度" value (kaolin, formazin, or polystyrene) and the measurement principle and light source.
2. Whether the meter can output in NTU or FNU, and whether this changes the optics or only the display label.
3. The turbidity values at 4 mA and 20 mA, and the output current when over range, in fault, and during maintenance.
4. The recommended calibration standard, calibration points, and frequency.
5. The basis for the alarm setpoint of [value] 度.Thank you for your help.
Best regards,
[Your name]
[Company]
এই লেখার সীমা
- EPA 180.1 ও ISO 7027-1-এর অপটিক্যাল শর্ত প্রকাশ্য সূত্র ও প্রস্তুতকারকের নথি থেকে সংক্ষেপে দেওয়া। কমপ্লায়েন্স বা ডিজাইনের কাজে স্ট্যান্ডার্ডের বর্তমান মূল পাঠ দেখুন।
- নিয়ন্ত্রক-সংস্থার পরীক্ষায় সংস্থার অনুমোদিত পদ্ধতিই ব্যবহার করতে হয় (যেমন যুক্তরাষ্ট্রে 40 CFR-এ তালিকাভুক্ত পদ্ধতি, বা জাপানের ট্যাপ-ওয়াটার পরীক্ষা-পদ্ধতি)। আপনার প্ল্যান্টে কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য, তা এই লেখা ঠিক করে না।
- বাংলাদেশের মান (DPHE-র পাতার 10 NTU, ECR 2023 সংক্রান্ত নথির 5.0 NTU, BDS 1240) দ্বিতীয় সূত্র থেকে নেওয়া। মূল আইন ও BSTI স্ট্যান্ডার্ডের বর্তমান পাঠ দেখে নিন।
- JIS K 0801-এর বর্তমান সংস্করণ ও শর্ত যাচাই করা যায়নি; সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
- উদাহরণের সব সমীকরণ ও সংখ্যা (SS-এর সম্পর্ক, S/T অনুপাত, 4–20 mA ক্ষেত্র) কাল্পনিক।
- টার্বিডিটি একা দ্রবীভূত উপাদান জানায় না। কুলিং ওয়াটার ও বয়লারের পানির জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রণ-প্যারামিটার লাগে, যেমন সাইকেলস অব কনসেন্ট্রেশন ও ব্লোডাউন নিয়ন্ত্রণ।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
জাপানি এক টার্বিডিটি ডিগ্রি মানে কত NTU?
সব ধরনের পানির জন্য খাটে এমন কোনো নির্দিষ্ট রূপান্তর নেই। স্ট্যান্ডার্ড ও অপটিক্স মিললে তবেই রিডিং তুলনা করুন। একই মিটারে ডিসপ্লের লেবেল বদলানো এক ব্যাপার, আর আলাদা আলোর উৎস বা ডিটেক্টর-কোণের মিটার বসানো আরেক ব্যাপার।
NTU আর FNU কি একই?
সংখ্যায় হ্যাঁ: একই স্ক্যাটার্ড-আলো পদ্ধতির মধ্যে ISO 7027-1 এদের সমতুল্য ধরে। আসল নমুনায় নাও মিলতে পারে। NTU আসে সাদা আলোর মিটার থেকে, FNU নিয়ার-ইনফ্রারেড মিটার থেকে, আর কণার আকার ও রং দুটোকে আলাদা রিডিং দিতে পারে।
mg/L-এ বলা টার্বিডিটি আর mg/L-এ বলা TSS কি একই?
না। কাওলিন-ভিত্তিক টার্বিডিটি mg/L-এ প্রকাশ করা আর ওজন করে পাওয়া ভাসমান কঠিন পদার্থের ভর, এ দুটো আলাদা রাশি। টার্বিডিটি থেকে TSS আন্দাজ করতে নিজের নমুনায় বানানো সম্পর্ক ব্যবহার করুন এবং তার বৈধ পরিসরের ভেতরে থাকুন।
অনলাইন টার্বিডিটি মিটার হঠাৎ বেশি দেখাচ্ছে কেন?
আসলে কণা বাড়া ছাড়াও সাধারণ কারণ হলো বুদবুদ, ভাসমান আবর্জনা, বাইরের আলো ও স্যাম্পল লাইনের পরিবর্তন। স্পাইকের সময় প্রক্রিয়ার ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন এবং আবার মাপুন, যাতে পানির পরিবর্তন আর পরিমাপের সমস্যা আলাদা করা যায়।
ক্যালিব্রেশন ঠিক থাকলেও মাঠের রিডিং আলাদা কেন?
স্ট্যান্ডার্ডে মিললেও আসল কণা ও রঙে একই সাড়া পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, এটা পদ্ধতিভেদে আলাদা। নমুনা নেওয়ার সময় ও থিতানোও ভূমিকা রাখে। তাই তুলনার আগে একই নমুনা একই শর্তে মাপুন।
সূত্র
- জাপানের টার্বিডিটি ইউনিট (কাওলিন ও ফর্মাজিন ডিগ্রি, 1 mg/L কাওলিনের সংজ্ঞা, EPA অপটিক্যাল শর্ত): Yokogawa, "টার্বিডিটির সংজ্ঞা ও ইউনিট" (জাপানি ভাষায়)
- NTU বনাম FNU অপটিক্স, ইউনিটের নাম, রঙের প্রভাব, নিয়ন্ত্রক পদ্ধতি: US EPA, "Field Turbidity Measurements" অপারেটিং পদ্ধতি
- ইউনিট-তালিকা (NTU, FNU, FAU, FNRU, FBU) ও অঞ্চলভেদে ব্যবহার: Thermo Fisher Scientific, "Turbidity Units – A Cloudy Issue"
- USGS-এর রিপোর্টিং ইউনিট: USGS Office of Water Quality Technical Memorandum 2004.03
- EPA Method 180.1-এর পরিসর ও অপটিক্স: NEMI, EPA-NERL 180.1 method summary; Health Canada, Guideline Technical Document – Turbidity
- ISO 7027-1-এর পরিধি, NTU/FNU সমতুল্যতা, পরিসর: ISO 7027-1:2016; Standard Norge, ISO 7027-1:2016
- ISO 7027-এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ডিটেক্টরের কোণ (দ্বিতীয় সূত্র): Hanna Instruments, HI88713 ISO turbidity meter
- প্রাকৃতিক পানিতে NTU ও FNU: US Bureau of Reclamation / California DWR memo on NTU and FNU; Campbell Scientific, টার্বিডিটি ইউনিট FAQ (জাপানি ভাষায়)
- জাপানের ট্যাপ-ওয়াটারের টার্বিডিটি মান: জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পানীয় জলের মান (জাপানি ভাষায়)
- জাপানের ট্যাপ-ওয়াটার পরীক্ষা-পদ্ধতি: Notification No. 261, পানির মান পরীক্ষা-পদ্ধতি (জাপানি ভাষায়)
- যুক্তরাষ্ট্রের মিলিত ফিল্টার এফ্লুয়েন্ট সীমা: eCFR, 40 CFR 141.551
- বাংলাদেশের পানীয় জলের টার্বিডিটি মান: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE), Water Quality Parameters; BEZA নথি (ECR 2023 ও BDS 1240:2021-এর উল্লেখ)
- JIS K 0102 সিরিজ: JEMAI, JIS K 0102 সিরিজের একত্রীকরণ (জাপানি ভাষায়); Japanese Standards Association, JIS K 0102-1:2021 (জাপানি ভাষায়); JIS K 0102-1 Amendment 1:2023 (জাপানি ভাষায়)
- অনুপাত পদ্ধতি: HORIBA, আলোর ট্রান্সমিশন ও স্ক্যাটারিং পদ্ধতি (জাপানি ভাষায়); Yokogawa, ট্রান্সমিটেড-স্ক্যাটার্ড আলোর টার্বিডিমিটারের টেকনিক্যাল তথ্য (জাপানি ভাষায়)
- সারফেস-স্ক্যাটার মিটার ও বুদবুদ: Yokogawa, সারফেস-স্ক্যাটার টার্বিডিমিটারে বুদবুদ মোকাবিলা (জাপানি ভাষায়)
- টার্বিডিটি বনাম SS ও SS রূপান্তর: Yokogawa, টার্বিডিটি ও SS-এর পার্থক্য (জাপানি ভাষায়); Kasahara Chemical Instruments, নমুনা-সম্পর্ক ব্যবহার করে SS রূপান্তর (জাপানি ভাষায়)
- StablCal ও ফর্মাজিনের ঝুঁকি: Hach, StablCal turbidity standard; Hach Method 10258
- NAMUR NE 43 সংকেত-স্তর: Test & Measurement Tips, "What's the difference between live zero and dead zero?"
জাপানি ভাষায় মূল লেখাএই গাইডটি জাপানের পাঠকদের জন্য লেখা একটি MONOSCOPE লেখা থেকে তৈরি: 濁度とは?度・NTU・FNUの違いと測定原理、選び方・校正の実務


